ইসলামে মাফকাঠি (মানদণ্ড) এবং হুকুম (আদেশ/ফয়সালা) কাকে করবেন, আর ইকতেদা (অনুসরণ) কাকে করবেন — এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর কুরআন-সুন্নাহ থেকেই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিতভাবে বুঝে নিন।
১. ইসলামের মাফকাঠি কী?
মাফকাঠি মানে হলো — কোনো কথা, আমল, আকিদা, দল, পীর, আলেম, বুজুর্গ — সঠিক কিনা তা যাচাই করার মানদণ্ড।
ইসলামে এই মাফকাঠি কোনো ব্যক্তি নন, বরং দুটি অহির উৎস:
১. আল-কুরআন
“আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা।” — সূরা নাহল: ৮৯
কুরআন হলো সর্বোচ্চ মাফকাঠি। কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কথা, স্বপ্ন, কাশফ, বুজুর্গের কথা, মাজহাবের ফতোয়া, সমাজের প্রচলন — কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।
২. রাসূল (সা.) এর সহীহ সুন্নাহ / হাদীস
“তোমাদের মধ্যে আমি দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে, পথভ্রষ্ট হবে না — আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।” — মুয়াত্তা মালেক
সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা। নামাজ কীভাবে পড়বেন, রোজা কীভাবে রাখবেন, যাকাত কতটুকু — এগুলো কুরআনে বিস্তারিত নেই, সুন্নাহতে আছে। তাই কুরআনকে সুন্নাহ ছাড়া বোঝা যাবে না, আবার সুন্নাহকে কুরআন ছাড়া যাচাই করা যাবে না।
এই দুটোই হলো আসল মাফকাঠি। বাকি সবকিছু — ইজমা, কিয়াস, আলেমের কথা — এই দুটো দিয়ে মাপতে হবে। এই দুটোর সাথে মিললে নেওয়া যাবে, না মিললে ছেড়ে দিতে হবে।
২. হুকুম কাকে করবেন? হুকুম দেওয়ার অধিকার কার?
হুকুম মানে — এটা হালাল, এটা হারাম, এটা ফরজ, এটা বিদআত — এই ফয়সালা দেওয়ার অধিকার।
ইসলামে হুকুম দেওয়ার অধিকার শুধু তিনটি স্তরে:
১. আল্লাহ তা’আলা—সর্বোচ্চ হাকিম
“হুকুম (বিধান দেওয়ার অধিকার) একমাত্র আল্লাহরই।”— সূরা ইউসুফ: ৪০
হালাল-হারাম বানানোর অধিকার কোনো নবী, ওলী, পীর, আলেম, সরকার, সংসদের নেই। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, কেউ হালাল করতে পারবে না।
২. রাসূলুল্লাহ (সা.) — আল্লাহর পক্ষ থেকে হুকুম পৌঁছে দেওয়া
“রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ করো। আর যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।” — সূরা হাশর: ৭
রাসূল (সা.) নিজের মনগড়া হুকুম দেননি। তিনি অহির মাধ্যমে যা পেয়েছেন, তাই বলেছেন। তাই তাঁর হুকুম মানা মানেই আল্লাহর হুকুম মানা।
৩. উলুল আমর ও আলেমগণ — তবে শর্তসাপেক্ষে
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (দায়িত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে মতভেদ হলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।” — সূরা নিসা: ৫৯
এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আছে: আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য নিঃশর্ত। কিন্তু উলুল আমর — অর্থাৎ শাসক, আলেম, মুফতি, পীর, নেতা — এদের আনুগত্য শর্তসাপেক্ষ। তারা যতক্ষণ কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী হুকুম দেবে, ততক্ষণ মানতে হবে। যখনই তারা কুরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে যাবে, তখন তাদের কথা ফেলে দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।
এজন্য সাহাবীরা বলতেন — “যদি আমি ভুল করি, তোমরা আমাকে শুধরে দিও।”
৩. ইকতেদা / অনুসরণ কাকে করবেন?
ইকতেদা মানে — দ্বীনের ব্যাপারে কাকে অনুসরণ করে চলবেন।
ক. সর্বপ্রথম ইকতেদা: রাসূল (সা.) এর
“নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।” — সূরা আহযাব: ২১
এটাই একমাত্র নিঃশর্ত ইকতেদা। তাঁর আকিদা, ইবাদত, আখলাক, লেনদেন, পরিবার, রাষ্ট্র — সব ক্ষেত্রে তাঁকেই মডেল বানাতে হবে।
খ. এরপর ইকতেদা: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর
কারণ তারাই রাসূল (সা.) কে সরাসরি দেখেছেন, কুরআন নাযিল হতে দেখেছেন, এবং রাসূল (সা.) তাদের ব্যাপারে বলেছেন — “আমার সাহাবীরা তারকার মতো, তোমরা যাকেই অনুসরণ করবে হেদায়েত পাবে।”
বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীন — আবু বকর, ওমর, উসমান, আলী (রা.) — তাদের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে বলা হয়েছে।
গ. এরপর ইকতেদা: নির্ভরযোগ্য আলেম ও সালাফদের
আমরা সবাই সরাসরি কুরআন-হাদীস থেকে মাসআলা বের করতে পারি না। তাই আলেমদের কাছ থেকে শিখতে হবে। কিন্তু আলেমদের অনুসরণ হবে দলিলসহ।
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ (রহ.) — তারা সবাই বলে গেছেন:
“যখন সহীহ হাদীস পাবে, সেটাই আমার মাযহাব। আমার কথা কুরআন-হাদীসের বিপরীত হলে, আমার কথা ছুঁড়ে ফেলে দাও।”
অর্থাৎ মাযহাব, পীর, শায়েখ, দল — এগুলো দ্বীন শেখার মাধ্যম, দ্বীনের মাফকাঠি নয়। মাধ্যমকে কখনো মাফকাঠি বানানো যাবে না।
৪. ব্যবহারিকভাবে কীভাবে চলবেন?
১. কোনো কথা শুনলে প্রথম প্রশ্ন: এটা কুরআনে আছে? সহীহ হাদীসে আছে?
২. কোনো আলেম, পীর, বক্তা, ইউটিউবারের কথা অন্ধভাবে নেবেন না। তিনি যত বড়ই হোন, দলিল চাইবেন।
৩. দল, সংগঠন, মাযহাবকে ভালোবাসবেন, কিন্তু তাদেরকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে করবেন না। ভুল সবার হতে পারে।
৪. মতভেদ হলে: গোঁড়ামি না করে, যার দলিল শক্তিশালী, তাকে গ্রহণ করবেন। আর মতভেদপূর্ণ বিষয়ে অন্যকে কাফের/বিদআতি বলবেন না।
৫. আকিদার ক্ষেত্রে: সাহাবীদের আকিদাই মাফকাঠি। নতুন কোনো আকিদা, নতুন কোনো তরিকা, নতুন কোনো ইবাদত বানানো যাবে না।
এক লাইনে সারাংশ
মাফকাঠি = কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ
হুকুমদাতা = একমাত্র আল্লাহ, তাঁর পক্ষ থেকে রাসূল (সা.)
ইকতেদা = প্রথমে রাসূল (সা.), তারপর সাহাবী, তারপর দলিলভিত্তিক আলেমগণ
যে ব্যক্তি, দল বা মত এই মাফকাঠিতে টিকে, তাকেই মানবেন। যে টিকবে না, তাকে যত বড়ই মনে হোক, ছেড়ে দেবেন।
আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ থাকা ইসলামে নতুন কিছু নয়। সাহাবীদের যুগেও মতবিরোধ ছিল। কিন্তু মতবিরোধ আর মতবিরোধকে কেন্দ্র করে দলাদলি, হিংসা, গালাগালি — এই দুইটা এক জিনিস নয়।
প্রথমটা ইসলামের জন্য রহমত হতে পারে, দ্বিতীয়টা ইসলামের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
আজকের ক্ষতিটা দ্বিতীয়টা থেকে হচ্ছে। বিস্তারিতভাবে দেখুন:
১. সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে
একজন আলেম বলেন — এটা জায়েজ, আরেকজন বলেন — এটা হারাম।
একজন বলেন — নামাজ এভাবে, আরেকজন বলেন — ওভাবে।
একজন বলেন — এই দোয়া বিদআত, আরেকজন বলেন — এই দোয়া সুন্নত।
সাধারণ মানুষ, যে কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান রাখে না, সে বুঝতে পারে না কাকে মানবে। ফলে তিনটা জিনিস হয়:
১. মানুষ দ্বীন থেকে দূরে সরে যায় — “হুজুররাই তো একমত হতে পারে না, আমরা কী করবো?”
২. মানুষ দ্বীনকে কঠিন মনে করে — “ইসলাম মানা এত কঠিন?”
৩. মানুষ নিজের পছন্দমতো ফতোয়া খুঁজে বেড়ায় — যেটা সহজ লাগে, সেটাই মানে। এটাকে বলে ফতোয়া শপিং।
এতে দ্বীনের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়।
২. উম্মাহ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে
আজ মুসলমানরা আর এক উম্মাহ নেই। হয়ে গেছে: হানাফি বনাম আহলে হাদীস
সুন্নি বনাম শিয়া
কওমি বনাম আলিয়া
তাবলীগ বনাম জামায়াত
পীরপন্থী বনাম পীরবিরোধী
এক বক্তার ভক্ত বনাম আরেক বক্তার ভক্ত
প্রত্যেক দল নিজেকে “সহীহ” আর অন্যকে “বাতিল”, “বিদআতি”, “কাফের” বলছে।
অথচ আল্লাহ বলেছেন:
“তোমরা সবাই আল্লাহর রশিকে শক্ত করে ধরো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” — সূরা আলে ইমরান: ১০৩
আলেমদের মতবিরোধ যখন দলাদলিতে রূপ নেয়, তখন উম্মাহর শক্তি শেষ হয়ে যায়। মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে করতে আসল শত্রু, আসল সমস্যা — যেমন নাস্তিকতা, ইসলামবিদ্বেষ, নৈতিক অধঃপতন, অর্থনৈতিক দুর্বলতা — এগুলোর মোকাবেলা করতে পারে না।
৩. আলেমদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে
আগে মানুষ আলেমদেরকে সম্মান করতো, তাদের কথা শুনতো। এখন ফেসবুক, ইউটিউবে এক আলেম আরেক আলেমকে প্রকাশ্যে গালি দিচ্ছেন, “মূর্খ”, “দালাল”, “ইহুদির এজেন্ট”, “বিদআতি” বলছেন।
সাধারণ মানুষ তখন ভাবে —”এরা তো নিজেরাই একে অপরকে গালি দেয়, এদের কথা কেন শুনবো?”
ফলে আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাচ্ছে। আর আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাওয়া মানে দ্বীনের জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাওয়া। তখন মানুষ দ্বীন শেখে টিকটক, রিলস আর অজ্ঞ লোকদের কাছ থেকে।
এটা ইসলামের জন্য ভয়ংকর ক্ষতি।
৪. ফরজ বিষয় বাদ দিয়ে ছোট বিষয় নিয়ে ঝগড়া
আজ সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয় এমন বিষয় নিয়ে, যেগুলো ফরজও না, আকিদার বিষয়ও না। যেমন:
হাত কোথায় বাঁধবে?
আমিন জোরে না আস্তে?
তারাবি ৮ রাকাত না ২০ রাকাত?
মিলাদ পড়া যাবে কি যাবে না?
শবে বরাতে হালুয়া খাওয়া যাবে কি না?
অথচ ফরজ বিষয়গুলো নিয়ে কোনো আলোচনা নেই — নামাজ কায়েম হচ্ছে না, সুদ ছাড়তে পারছে না, ঘুষ, দুর্নীতি, মিথ্যা, বেপর্দা, যুবকদের মাদক, পর্নোগ্রাফি — এগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ হচ্ছে না।
ছোট ছোট মুস্তাহাব/মুবাহ বিষয়কে আকিদার বিষয় বানিয়ে ফেলার কারণে আসল দ্বীন পিছিয়ে যাচ্ছে।
৫. অমুসলিমদের কাছে ইসলামের ভুল চিত্র যাচ্ছে
অমুসলিমরা যখন দেখে মুসলমান আলেমরা নিজেরাই একে অপরকে কাফের বলছে, মসজিদে মারামারি করছে, মাহফিলে একে অপরকে নিয়ে কটূক্তি করছে — তখন তারা ভাবে, “এই ধর্মে যদি শান্তিই না থাকে, তাহলে এই ধর্ম গ্রহণ করে কী হবে?”
অথচ ইসলামের সৌন্দর্য হলো — ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও ভাই ভাই হয়ে থাকা। রাসূল (সা.) এর যুগে সাহাবীদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল, কিন্তু তারা একে অপরের পেছনে নামাজ পড়েছেন, একে অপরকে ভালোবেসেছেন।
আজকের এই কাদা ছোড়াছুড়ি দাওয়াতের পথকে বন্ধ করে দিচ্ছে।
৬. যুব সমাজ নাস্তিকতা ও সন্দেহের দিকে যাচ্ছে
একজন যুবক যখন দেখে — একই হাদীস দিয়ে একজন প্রমাণ করে এটা হালাল, আরেকজন প্রমাণ করে এটা হারাম — তখন তার মনে প্রশ্ন আসে, “ইসলাম কি আসলেই সত্য? নাকি সবাই নিজের মতো করে বানিয়ে বলছে?”
এই সন্দেহ থেকে অনেক যুবক ধীরে ধীরে দ্বীন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, কেউ কেউ নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে।
আলেমদের উচিত ছিল মতবিরোধের আদব শেখানো — যে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তারপরও আমরা ভাই। কিন্তু উল্টোটা হচ্ছে।
তাহলে সমাধান কী?
ক্ষতি মতবিরোধে নয়, ক্ষতি মতবিরোধের অপব্যবহারে। সমাধান হলো:
১. মতবিরোধের আদব ফিরিয়ে আনা: আমার মত সঠিক হতে পারে, তবে ভুলের সম্ভাবনা আছে। অন্যের মত ভুল হতে পারে, তবে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে — ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এর এই নীতি মানা।
২. আকিদা আর ফিকহ আলাদা করা: আকিদা (আল্লাহ, রাসূল, আখিরাত) নিয়ে কোনো ছাড় নেই। কিন্তু ফিকহি মাসআলায় (হাত বাঁধা, আমিন) ছাড় দিতে হবে।
৩. কাউকে কাফের, বিদআতি বলার আগে ১০০ বার ভাবা: একজন মুসলমানকে কাফের বলা মানে নিজের ঈমানকে ঝুঁকিতে ফেলা।
৪. মূল বিষয়ে ঐক্য: নামাজ, রোজা, হালাল-হারাম, নৈতিকতা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য — এগুলোতে সবাই এক হওয়া।
৫. সাধারণ মানুষের করণীয়: কোনো আলেমকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করা, আবার কোনো আলেমকে গালি না দেওয়া। দলিল দেখে, আদব রেখে মান্যতা করা। ভক্ত হয়া কিন্তু অন্ধ ভক্ত না হওয়া। আজ ইসলামের ক্ষতির কারণ হচ্ছেন কি আলেম এই জন্যে আল্লাহ কোরআনে এবং রাসুল সা: বলেছেন আলেম দুই প্রকার এক হল উতকৃষ্ট আর দুই নিকৃষ্ট। একদল জান্নাতের উচ্ছ আসন পাবেন অন্যদল যাবেন জাহান্নামের নিকৃষ্ট স্থানে।
মতিন বকশ
বিএ,বিএসএস, এল এল বি।
সমাজকর্মী।
ইসলামের মানদণ্ড, মাফকাঠি এবং ফিতনা আমার ক্ষুদ্র আলোচনা
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
জনপ্রিয়


















