পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় রাশিয়া ও ইরান সামরিক সহযোগিতা আরো বাড়িয়েছে। যদিও সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে সহায়তা করতে রাশিয়া খুব সামান্য ভূমিকা রাখছে, এমনকি কোনো সহায়তাই দিচ্ছে না।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়া ইরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ইরানের কাছে কাঁধে বহনযোগ্য ‘ভার্বা’ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে।এ ছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, এমন তথ্য নিয়েও তেহরানের সঙ্গে মস্কোর যোগাযোগ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের অনাবাসিক গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, নিজেদের যুদ্ধের চাপ থাকা সত্ত্বেও মস্কো ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আপত্তিকেও আগের তুলনায় কম গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ডালাস অ্যানালিটিক্স ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে (এফটি) যে উৎপাদনসংক্রান্ত নথি দিয়েছে, সেটি ২০২৪ সালের মে মাসে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলের পাঠানো একটি চিঠির সঙ্গে যুক্ত ছিল।ওই চিঠিতে ভিম্পেল রাশিয়ার আরেক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবিএমকে হেলিকপ্টারে স্থাপনযোগ্য দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক, এপিইউ-এল ও এপিইউ-৩০৫-এর যন্ত্রাংশ দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ জানায়। চিঠিতে বলা হয়, যন্ত্রাংশ সরবরাহে দেরি হলে মোট নয়টি চুক্তি বাস্তবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
চিঠির সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন তালিকায় সাতটি রুশ প্রতিষ্ঠান এবং দুটি বিদেশি ক্রেতার নাম রয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে চীন ১৯২টি এপিইউ-৩০৫ উৎক্ষেপকের অর্ডার দিয়েছে। অন্য ক্রেতাকে ‘কে-১০’ সাংকেতিক নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্রেতা ৯০টি এপিইউ-এল উৎক্ষেপকের অর্ডার দিয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নথি এবং এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক সংস্থা রোসোবোরোনেক্সপোর্ট ইরানকে বোঝাতে ‘কে-১০’ সাংকেতিক নামটি ব্যবহার করে। ফলে নথিতে উল্লেখ করা ৯০টি উৎক্ষেপকের ক্রেতা হিসেবে ইরানকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) হাতে আসা আরো কিছু রুশ নথিতে ‘কে-১০’ সাংকেতিক নামটির সঙ্গে ইরানের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব নথির একটি হলো ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ ও হালকা আক্রমণকারী বিমান সরবরাহের চুক্তি।
সেখানে ক্রেতা হিসেবে স্পষ্টভাবে ‘কে-১০, ইরান’ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা রোস্তেকের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ সালের উৎপাদন পরিকল্পনাতেও ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ বিমান তৈরির তথ্য রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই বছরের প্রথম ছয় মাসে দুটি এবং পরের ছয় মাসে চারটি বিমান তৈরির কথা ছিল। এই উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে ইরানে বিমান সরবরাহের প্রকাশিত তথ্যেরও মিল রয়েছে।
২০২৩ সালে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছিল, ইরান দুটি ইয়াক-১৩০ বিমান পেয়েছে। পরে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ছয়টি বিমানই ইরানের কাছে সরবরাহ করা হয়। তবে নথিতে ইরানের জন্য বরাদ্দ করা ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক শেষ পর্যন্ত দেশটিকে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।


















