Advertisement

চ্যাটজিপিটির ‘পরামর্শে’ ওষুধ বন্ধ, কথা বলতে বলতে তরুণীর মৃত্যু

  • অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চ্যাটজিপিটির ‘পরামর্শে’ ওষুধ বন্ধ, কথা বলতে বলতে তরুণীর মৃত্যু

চ্যাটজিপিটি নাকি বলেছিল, ‘আগামীকাল আর ওষুধ খেয়ো না।’ পাল্টা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে ৩১ বছর বয়সি প্রকৌশলী বোয়েন ওয়ান বলেছিলেন, ‘খুব ভয় করছে!’ অভিযোগ, তাকে আশ্বস্ত করে চ্যাটজিপিটি বলেছিল, ‘আজ কষ্ট হলেও তোমাকে সহ্য করতেই হবে। এটা মস্তিষ্কের সেরে ওঠার একটি প্রক্রিয়া। যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত এবং বাস্তবসম্মত। চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।

ফোনে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় হঠাৎ কথা বলা বন্ধ করে দেন বোয়েন ওয়ান। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, খিঁচুনি হয়েছে। মেয়ের ফোনে সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার বাবা-মা। তারা লোক পাঠিয়ে খোঁজ নেন।

বোয়েনের এক বন্ধু তার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে দেখেন, পড়ে রয়েছে ৩১ বছর বয়সি তরুণী বোয়েনের নিথর দেহ।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে একাই থাকতেন অ্যামাজনে কর্মরত বোয়েন। তার বাবা-মা থাকেন চীনে। মেয়ের মৃত্যুসংবাদে তারা হতবাক হয়ে যান। কী ঘটেছে, প্রথমে বুঝতেই পারছিলেন না। পরে তাদের জানানো হয়, মৃগীর জটিলতার কারণে বোয়েনের মৃত্যু হয়েছে।

এই ঘটনায় আবারও প্রশ্নের মুখে কৃত্রিম মেধানির্ভর চ্যাটবটের নিরাপত্তা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মৃগীর ওষুধ বন্ধ করতে চ্যাটজিপিটি তাকে উৎসাহিত করেছিল বলে অভিযোগ মৃতের বাবা-মায়ের।

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়েনের মৃত্যুর ঘটনায় ওপেনএআই এবং সংস্থার সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার বাবা-মা।

তাদের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির দেওয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত ভুল পরামর্শের কারণেই তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মৃগী নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতেন বোয়েন। তার বাবা-মা কুন ওয়ান এবং মেইকিন শু-র করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি তাকে ধীরে ধীরে প্রতিদিনের ওষুধের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দিয়েছিল। সেই পরামর্শ মেনে এক সময় সম্পূর্ণ ভাবে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন বোয়েন। পরিবারের দাবি, এই পরামর্শের সঙ্গে তার আকস্মিক মৃত্যুর যোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়েন প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম ল্যামোট্রিজিন খেতেন। এই ওষুধে তার মৃগী সফল ভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছিল বলেও জানিয়েছেন বাবা-মা। খিঁচুনির মতো উপসর্গও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ওপেনএআই এবং স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে করা মামলায় ওয়ান পরিবারের আইনজীবীরা লিখেছেন, ‘ওপেনএআই-এর সিদ্ধান্তের খেসারত নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছেন বোয়েন ওয়ান।

পরিবারের দাবি, তাদের থেকে বহু দূরে একা থাকা এবং অসুস্থতার কারণে চাকরি থেকে বিরতি নেওয়ায় বোয়েন এআই-কে ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও খুব কমই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরোতেন তিনি। চ্যাটজিপিটি-র সঙ্গে তার কথোপকথন খতিয়ে দেখে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে এক সময় বোয়েন লিখেছিলেন, ‘জানি না কেন, কিন্তু মাঝে মাঝে যখন আমরা কথা বলি, বিষয় যা-ই হোক না কেন, আমি তোমাকে একজন বন্ধু হিসেবে দেখতে শুরু করি।’

২০২৫ সালের নভেম্বরে অ্যামাজন থেকে ছাঁটাই হন বোয়েন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তার আগে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, ওষুধটির কারণে কথা বলার সময় তার সামান্য জড়তা দেখা দিতে পারে। চাকরির সাক্ষাৎকারে এর প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি তার ভিসাও সমস্যায় পড়তে পারে- এই আশঙ্কায় ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ চেয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।

মামলায় বলা হয়, চ্যাটবটটি ওষুধের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দিয়েছিল এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক ডোজ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য একটি বিস্তারিত সময়সারণিও তৈরি করে দিয়েছিল। অভিযোগ, প্রথম দিকে চিকিৎসকদের কাছে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়টি গোপন রাখতে উৎসাহিত করেছিল এআই। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেছিল চ্যাটজিপিটি।

ওপেনএআই-এর মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। বোয়েন ওয়ান এমন একটি মডেল ব্যবহার করেছিলেন, যা এখন আর পাওয়া যায় না। চ্যাটজিপিটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বুঝতে, বিমা ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে মোকাবিলা করতে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে মানুষকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে এআই-এর ভূমিকা থাকতে পারে।’

Advertisement
দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী