Advertisement

৫০ হাজার কিমি হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ২৮ বছর পর ফিরলেন বাড়ি

৫০ হাজার কিমি হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ২৮ বছর পর ফিরলেন বাড়ি
দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের পথচলা। দিগন্ত ছোঁয়া। অবিশ্রান্ত দুই পা। অবশেষে পায়ে হেঁটে পুরো বিশ্বপরিক্রমা শেষ করে নিজ বাড়িতে ফিরলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি। সোমবার নিজের শহরের চেনা গণ্ডিতে ফিরে দীর্ঘ ২৮ বছরের রূপকথার এই অভিযান শেষ করলেন তিনি। মধ্য আমেরিকার গহীন জঙ্গল, আলাস্কা ও রাশিয়ার জমাট বরফ কিংবা হিমশীতল ইংলিশ চ্যানেল—সব বাধা তিনি পারি দিয়েছেন স্রেফ নিজের পায়ের শক্তিতে। একক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ নিজস্ব শারীরিক উদ্যমে লিখেছেন এক নতুন ইতিহাস। জন্মশহর হাল-এ সোমবার সকালে পৌঁছালে হাজার হাজার মানুষ তাকে বরণ করে নেন উষ্ণ করতালিতে। আবেগাপ্লুত বুশবি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘২৮ বছরের এই পথচলা শেষে এর চেয়ে সুন্দর উপহার আর কিছুই হতে পারে না।’

কথা শেষে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামান্য কিছু রসদ নিয়ে ট্রলি ঠেলে তিনি এগিয়ে যান শৈশবের বাড়ির দিকে।

সেখানে পথ চেয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তার বৃদ্ধা মা, ছেলে ও নাতনি।ত্রিশ বছর আগে ভাঙা হৃদয় ও সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর মানচিত্রে একটি দাগ কেটে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা। মাত্র এক জোড়া পা, একটি তাঁবু, সামান্য কিছু ডলার আর একটি সস্তা প্লাস্টিকের ক্যামেরা—এই ছিল তার সম্বল। চিলি থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা, আলাস্কা, রাশিয়া, মোঙ্গলিয়া, চীন ও ইউরোপ হয়ে অবশেষে পূর্ণ হলো তার বৃত্ত। তবে এই যাত্রা গোলাপ বিছানো ছিল না। মরুভূমির একঘেয়েমি, সুমেরুর হাড়কাঁপানো শীত ছাড়াও পানামায় গ্রেপ্তার, মেক্সিকোতে বন্দুকের মুখে জিম্মি হওয়া কিংবা সীমান্ত নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের বন্দিশালা—সব দেখেছেন তিনি। সঙ্গে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা ও কোভিডের বাধা।

বিবিসিকে বুশবি জানান, ২৮ বছরের মধ্যে টানা ১৫ বছর হেঁটেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ১২ বছরে বিশ্বভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা ও প্রশাসনিক জটিলতা মেটাতে বাড়তি সময় লেগেছে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বুশবি বলেন, একটি কাজ সম্পন্ন করতে যেমন অনেকের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তেমনি তাকে বাড়ি ফিরতে পুরো পৃথিবীর মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে। যাত্রাপথে অসংখ্য অপরিচিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। তাই এই অর্জনকে নিজের একক কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে তিনি জানান, এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিল বিশাল একটি দল, যার নাম পৃথিবী।

এই অবিশ্বাস্য অভিযান নিয়ে তৈরি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র এখন মুক্তির অপেক্ষায়। খুব শিগগিরই নিজের এই মহাকাব্যিক অভিযানের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পুরো ইংল্যান্ডজুড়ে স্পিকিং ট্যুরে বের হবেন কার্ল বুশবি।

Advertisement
অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইয়াহইয়া রহমান: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় নিবেদিত এক বর্ণাঢ্য জীবন

অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইয়াহইয়া রহমান: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় নিবেদিত এক বর্ণাঢ্য জীবন