Advertisement

ক্রেচারে ভর করে অসুস্থ শরীর নিয়েই উপনির্বাচনের ভোট দিলেন বৃদ্ধ তাহের আলী

ক্রেচারে ভর করে অসুস্থ শরীর নিয়েই উপনির্বাচনের ভোট দিলেন বৃদ্ধ তাহের আলী
অসুস্থতা আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাঁর নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধকে। লাঠিতে ভর দিয়ে নয়, বরং ‘ক্রেচার’ বা হাঁটার সহায়ক যন্ত্রে ভর করে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধ তাহের আলী। অসুস্থ শরীরকে হার মানিয়ে তাঁর এমন দৃপ্ত পদচারণা মুহূর্তেই আলোড়ন তুলেছে পুরো ভোটকেন্দ্র এলাকায়। আজ ঠাকুরগাঁও -১ আসনের উপনির্বাচনে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৯৪ পি, মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। তাহের আলী মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আরাজী রামপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে। ৮২ বছর বয়সী প্রবীণ এই বৃদ্ধের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। চলাফেরার জন্য তাঁকে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ সহায়ক যন্ত্র বা ক্রেচারের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু শরীরের এই চরম অসুস্থতা ও প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে তাঁর মনে ছিল ভোট দেওয়ার অদম্য আগ্রহ। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে মহাখুশি এই প্রবীণ ভোটার। ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় তাহের আলী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই গণমাধ্যম কর্মীকে বলেন, “শরীরের অবস্থা তো ভালো না, ডাক্তারও নিষেধ করেছে হাঁটাচলা করতে। কিন্তু ভোট দেওয়া তো দেশের প্রতি আমার একটা বড় দায়িত্ব। আমি মরে যাওয়ার আগে আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে যেতে চেয়েছি। যত কষ্টই হোক, এই অধিকার আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।” তাহের আলীর এমন দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে তাঁর প্রশংসার জোয়ার। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও এই বৃদ্ধের অদম্য উৎসাহ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। অনেকেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাহের আলী শুধু একজন ভোটারই নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের এক অনন্য ও জীবন্ত উদাহরণ।
Advertisement
অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইয়াহইয়া রহমান: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় নিবেদিত এক বর্ণাঢ্য জীবন

অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইয়াহইয়া রহমান: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় নিবেদিত এক বর্ণাঢ্য জীবন