Advertisement

সুরা ইনশিরাহতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

সুরা ইনশিরাহতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট, হতাশা ও অনিশ্চয়তা আসবেই। কখনো জীবিকার সংকট, কখনো পারিবারিক অশান্তি, আবার কখনো ব্যর্থতার ভারে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এমন সময়ে প্রয়োজন ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহর ওপর ভরসা। পবিত্র কোরআনের সুরা ইনশিরাহ মানুষকে সেই আশার বার্তাই দেয়। ছোট এই সুরায় রয়েছে সংকট মোকাবিলা ও জীবনকে নতুন করে দেখার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

সুরা ইনশিরাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, কষ্ট কখনো জীবনের শেষ কথা নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত ৫-৬)

একই আশ্বাসের পুনরাবৃত্তি মানুষের মনে প্রত্যয় তৈরি করে। জীবনের কঠিন সময় স্থায়ী নয়; আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই বিপদে হতাশ হয়ে পড়া কিংবা সব সম্ভাবনার দরজা বন্ধ মনে করা উচিত নয়। বরং ধৈর্য ধরে সঠিক পথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সুরার শুরুতে আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বক্ষ প্রশস্ত করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। (আয়াত ১) এর মাধ্যমে মানুষের জীবনে মানসিক প্রশান্তি ও অন্তরের প্রশস্ততার গুরুত্বও উপলব্ধি করা যায়। দুশ্চিন্তা ও হতাশা মানুষকে সিদ্ধান্তহীন করে তুলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর স্মরণ, দোয়া, আত্মসমালোচনা এবং বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ মানসিক শক্তি জোগাতে পারে।

আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, যখনই অবসর পাও, ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করো।’ (আয়াত ৭) এরপরই নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর তোমার রবের প্রতি মনোনিবেশ করো।’ (আয়াত ৮)

এই আয়াতগুলো মানুষকে দায়িত্বশীল ও কর্মমুখর জীবন গড়ার শিক্ষা দেয়। একটি কাজ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। জীবনের অবসরকে অলসতায় নষ্ট না করে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত। তবে কাজের ব্যস্ততায় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক যেন দুর্বল না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সুরা ইনশিরাহ শেখায়, দুঃসময়ে ধৈর্য হারানো যাবে না। চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কষ্টের মধ্যে স্বস্তির আশা, ব্যর্থতার পর নতুন উদ্যোগ এবং ব্যস্ততার মধ্যেও ইবাদতের অভ্যাস—এসবই হতে পারে বাস্তবে এই সুরার শিক্ষা ধারণ করার উপায়। সূত্র-ঢাকা পোস্ট

জনপ্রিয়